তীব্র গরম-লোডশেডিংয়ে মৌলভীবাজারে চা উৎপাদন ব্যাহত
Published : ২০:১২, ১৭ আগস্ট ২০২৬
মৌলভীবাজারে তীব্র গরমের সঙ্গে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চায়ের ভরা মৌসুমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলার ৯৩টি চা বাগানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জেনারেটর ব্যবহার করে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও এতে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জিএম শিবলী চায়ের গুণগত মান ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চা পাতা সংগ্রহের পর শুকানো, রোলিং ও জারণসহ বিভিন্ন ধাপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সময়মতো পাতা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব না হওয়ায় চায়ের মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে দিন-রাত দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও স্বাস্থ্যসেবাতেও ভোগান্তি বাড়ছে। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমদ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চা উৎপাদনে ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
মৌলভীবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইন্দ্রোজিৎ দেবনাথ ও মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাসও দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে মোট ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলমান বিদ্যুৎ সংকটে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।



































