হেলমেট পরে পরীক্ষা জবি শিক্ষার্থীদের

হেলমেট পরে পরীক্ষা জবি শিক্ষার্থীদের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:২৯, ২ এপ্রিল ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের একাডেমিক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা চালানো এখন আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী হেলমেট পরে পাঠদান ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালবেলায় গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম এবং মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেনি। এর আগে গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে হেলমেট ব্যবহার করছি।” অন্য শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, “আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে, তবুও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পরীক্ষা দিতে আসা আমাদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। এজন্য হেলমেট ছাড়া আসা সম্ভব নয়।”

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে।

দ্রুত সংস্কার কার্যকর না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেছেন, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প নেই, তাই সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। তারা কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংস্কারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বড় সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও বলেন, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি, যা এখন অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা এবং ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

মোটের ওপর, শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement