‘ভারত সরকারের’ নামে চিঠি দেন ৩২ বার বদলি হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষা কর্মকর্তা
Published : ২০:০৪, ২৫ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসলাম খানের বিরুদ্ধে ঘুষ, অসদাচরণ, চাঁদাবাজির অভিযোগসহ একের পর এক বিতর্কের তথ্য সামনে এসেছে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত ১০টি বিভাগীয় মামলা রয়েছে এবং চাকরি জীবনে তিনি ৩২ বার বদলি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে তিনি ভারত সরকারের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক শিরোনাম লিখতেন। এছাড়া ঘুষ ছাড়া কোনো প্রশাসনিক কাজে স্বাক্ষর না করা এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত নথিতে সই না করায় কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন বেতন পাননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইয়াসমিন নাহার রুমা সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) মৌখিক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের অনুরোধে সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন।
এর আগে ২০২৩ সালে পাঠ্যপুস্তক বিতরণসংক্রান্ত এক সভায় শিক্ষার্থীপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগও ওঠে আসলাম খানের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় উপজেলার ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতেও তাকে বিতর্কিত আচরণ করতে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সম্প্রতি মাউশিতে ডেকে পাঠানো হলে তিনি এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও অসংলগ্ন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে বদলি হলেও একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
সব অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও মো. আসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
































