কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ
Published : ২০:৩১, ২৪ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে একটি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, যারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অস্বীকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের জন্য কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে।
তার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, কোরআনের আয়াতের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি অসম্মান ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল। তিনি বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
স্পিকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কোনো ভুল ব্যাখ্যা বা আপত্তিকর মন্তব্য প্রমাণিত হলে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম-প্রধান দেশ এবং কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য একজন মাওলানা এবং তিনি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
তবে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, আয়াতটির প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাজেটের সমালোচনা করলে আল্লাহর আজাব নেমে আসবে—এমন ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা অনুচিত।
বিতর্ক আরও বাড়তে থাকলে স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেন। পরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
চিফ হুইপ বলেন, অভিযুক্ত সংসদ সদস্য নিজেও একজন আলেম এবং তিনি কোনো ব্যঙ্গ বা বিদ্রুপের উদ্দেশ্যে কথা বলেননি। বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সঠিক আমলের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদের উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে উত্থাপিত আপত্তি পরীক্ষা করে দেখার আশ্বাস বহাল থাকে।

































