যুদ্ধবিরতির পর ইরানকে সহায়তায় এগিয়ে এলো চীন
Published : ১৯:৫৬, ২৫ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইরানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে যাচ্ছে চীন। দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেইজিং অর্থনৈতিক, মানবিক এবং কূটনৈতিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ঘাদির নিজামিপুরের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং নিজস্ব উপায়ে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং দ্রুত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। কারণ ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলো চীন। ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীন আমদানি করে বলে ধারণা করা হয়। দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর চীনের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে চীন মানবিক সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ত্রাণসামগ্রী এবং পুনর্গঠন সহায়তার পাশাপাশি সংঘাত-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক দেশগুলোকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আরও জানান, ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী চীন। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে তারা। পাকিস্তান ও কাতারের সহায়তায় অনুষ্ঠিতব্য ওই আলোচনা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভিত্তিতে এগোবে বলে জানা গেছে।
চীন মনে করে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকা, পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংঘাত চলাকালে বেইজিং ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। একই সঙ্গে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো জোটের মাধ্যমে ইরানের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাও চীনের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুসহ বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের কারণে বেইজিংকে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।
































