দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহারে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি
Published : ১৫:২২, ১৩ আগস্ট ২০২৬
গান শোনা, ফোনে কথা বলা কিংবা কাজের ফাঁকে বিনোদনের জন্য প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড বা হেডফোন ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে দীর্ঘ সময় উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহারের অভ্যাস শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে ইয়ারবাডে উচ্চ শব্দ সরাসরি কানের পর্দার কাছাকাছি পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় এ ধরনের শব্দের সংস্পর্শে থাকলে অন্তঃকর্ণের ক্ষুদ্র হেয়ার সেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাধারণত পুনরুজ্জীবিত হয় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কেন ইয়ারবাডে ঝুঁকি বেশি?
ইয়ারবাড কানের ভেতরের দিকে অবস্থান করায় এর শব্দের উৎস কানের পর্দার বেশ কাছাকাছি থাকে। ফলে উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘ সময় গান বা অন্যান্য অডিও শুনলে কানের ওপর শব্দের চাপ বাড়ে।
এ ছাড়া কানে ঠিকমতো না বসা ইয়ারবাডের কারণেও সমস্যা হতে পারে। বাইরের শব্দ বেশি শোনা গেলে অনেকেই ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এতে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার শব্দ কানে পৌঁছানোর ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে কানে খৈল জমে কান বন্ধ বা ভারী লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গবেষণায় কী বলছে?
২০২২ সালে মেডিকেল জার্নাল Cureus-এ প্রকাশিত একটি সাহিত্য পর্যালোচনায় ইয়ারফোন ও হেডফোন ব্যবহারের সঙ্গে শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাসের সম্পর্ক নিয়ে ২৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দীর্ঘ সময় ও উচ্চ ভলিউমে ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ার ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে Journal of Audiology & Otology-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা একটানা এক ঘণ্টার বেশি ইয়ারফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ইয়ারফোন-সম্পর্কিত কানের সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করা নিরাপদ?
ইয়ারবাড ব্যবহারের নিরাপদ সময় সবার জন্য এক নয়। এটি শব্দের মাত্রা, ব্যবহারের সময় এবং ব্যক্তির শ্রবণস্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। তবে শ্রবণস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রচলিত ‘৬০/৬০ নিয়ম’ অনুসরণ করা যেতে পারে।
এই নিয়ম অনুযায়ী—
ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা ভালো।
একটানা প্রায় ৬০ মিনিটের বেশি ইয়ারবাড না ব্যবহার করাই ভালো।
ব্যবহারের মাঝখানে নিয়মিত বিরতি নেওয়া উচিত।
আশপাশে বেশি শব্দ থাকলে ভলিউম অতিরিক্ত বাড়ানো এড়িয়ে চলা দরকার।
ইয়ারবাড কি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানের সমস্যা না থাকলে ইয়ারবাড সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘ সময় একটানা ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ভলিউম এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক ভলিউমে অডিও শোনা, ব্যবহারের মাঝে বিরতি নেওয়া এবং কানে অস্বস্তি বা শ্রবণশক্তির পরিবর্তন দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণস্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।


































