চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, বিএনপিতেও শুদ্ধি তৎপরতা

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, বিএনপিতেও শুদ্ধি তৎপরতা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৪১, ৩ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে আইনের আওতায় আনার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিএনপির ভেতরেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ১ অক্টোবর তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে মিষ্টি এসব অভিযোগে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও এসেছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

সরকারের পক্ষ থেকেও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও সশস্ত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে, বিএনপির ভেতরে নেওয়া সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পদক্ষেপের কারণে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভেতরেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সুত্রঃ যুগান্তর 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement