সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
Published : ১৬:১৫, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সন্তানদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু নিজের বাসা বা এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করলেই হবে না, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কোনো অভিভাবকই চান না তাঁর সন্তান ময়লা, জীবাণু ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বড় হোক। শিশুরা বাসার আশপাশের বাইরেও স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, পুরো ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্নতা ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা। এটি এক দিন কিংবা সাত দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো যাবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। সময় লাগলেও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং পরিবর্তনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও একইভাবে নগরীর সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সমাধানে উদ্যোগী হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশের নগরী নিয়েও আক্ষেপ না করে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতিতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে এমন একটি দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, ওই ব্যক্তি ঢাকার পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায় যে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আরও উন্নতি করা সম্ভব।
নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও নিয়মিত খোঁজখবর রাখার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও সড়ক বিভাজক নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অন্যের সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালনের মান ও প্রচেষ্টা নিয়েও মূল্যায়ন করতে হবে।
এর আগে নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন তিনি। জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।
এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও চিত্রও তাঁকে দেখানো হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।































