বরিশালে ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, জব্দ ডিভাইস
Published : ১৬:১৭, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে রোগী দেখার সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর ব্যবহৃত ডিভাইস ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ চিকিৎসক না হয়েও আলীমুল ইসলাম চিকিৎসক পরিচয়ে ব্যবস্থাপত্র দিতেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন আলীমুল। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায় তাঁর নিয়মিত রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে। ল্যাপটপ ও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের দাবি করে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমেও তিনি মানুষকে প্রতারিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের একজন সালেহা বেগম। চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকার ওই ফার্মেসির খবর পান। সেখানে ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে এভাবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সালেহা। তাঁর মতো আরও অনেকে ওই ব্যক্তির কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আলীমুল ইসলামের নামে ছাপানো ব্যবস্থাপত্রে ‘ডা. আলীমুল ইসলাম’ লেখা ছিল। সেখানে তাঁর যোগ্যতা হিসেবে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও ব্যবস্থাপত্রে দাবি করা হয়েছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উপস্থাপিত নথিগুলো ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করলেও বৈধ যোগ্যতার নথি দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলেও জানান ইউএনও।
ইউএনও আরও জানান, প্রথমবারের মতো তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে যুক্ত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। অভিযানের সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।































