পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশে ফিরিয়ে আনল সিআইডি

পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশে ফিরিয়ে আনল সিআইডি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:১১, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বাংলাদেশ)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশে ফিরিয়ে এনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ)) নামের একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকার সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা দেশে ফেরত আনা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অর্জন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। ঢাকায় বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সাফল্য তুলে ধরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার ইতিবাচক ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস-ও তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি প্রকাশ করে সিআইডির সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ফল হিসেবে এই অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সিপিসির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা এবং কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে প্রথমবারের মতো বিদেশে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এটি সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

উল্লেখ্য, এমটিএফই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের কৃত্রিম লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করত। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে পাচার করা হয়।

তদন্তে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের টেথার (ইউএসডিটি) শনাক্ত করা হয়। উন্নত ব্লকচেইন বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ জব্দ করে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তা বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, দ্রুত ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement