রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
Published : ১৪:৩৬, ৭ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ২০ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

































