বিআরটিএর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণা, সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ৩ জন

বিআরটিএর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণা, সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ৩ জন ছবি : সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেক্স

Published : ২২:১৫, ১৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ট্রাফিক জরিমানার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন খুলনার বটিয়াঘাটার মো. রাব্বি শেখ (২৪), ফেনীর সোনাগাজীর মো. রিয়াদ হোসেন (৩১) এবং ঢাকার দক্ষিণখানের মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩১)।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে দাবি করত যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছেন এবং জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বার্তার সঙ্গে বিআরটিএর ওয়েবসাইটের মতো দেখতে একটি ভুয়া লিংক যুক্ত করা হতো।

লিংকে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীরা সরকারি ওয়েবসাইট মনে করে সেখানে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে ওটিপি সংগ্রহ করে প্রতারকরা ব্যাংক হিসাব ও কার্ড থেকে অর্থ সরিয়ে নিত।

একটি ঘটনায় ভুক্তভোগী জরিমানা পরিশোধ করতে গিয়ে নিজের স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংকিং তথ্য ব্যবহার করেন। পরে তিনি দেখতে পান, জরিমানা পরিশোধের পরিবর্তে তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, একই ধরনের আরও কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করে তারা জানতে পারে যে চক্রটি ভুয়া ট্রাফিক মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করত। তদন্তে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সিআইডি জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে আসা কোনো এসএমএস, লিংক বা অনলাইন পেমেন্ট নির্দেশনা অনুসরণ করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে কখনোই ব্যাংক কার্ডের তথ্য, পিন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement