শিরোনাম: জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন : পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Published : ০৪:৪৭, ১১ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সক্ষমতার সবটুকু দিয়ে কাজ করতে হবে। সরকার পুলিশের কাছে এমন দায়িত্বশীল ভূমিকাই প্রত্যাশা করে।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মহান স্বাধীনতার জন্য যেসব পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন পুলিশ বাহিনীকে জনগণ ও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, রাজারবাগের এই মাটি পুলিশের আত্মত্যাগের সাক্ষী। তাই এই ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে নতুনভাবে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার মানুষ এখন শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। জাতির স্বাধীনতার জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যরা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই দেশের জনগণের প্রতিও পুলিশের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার বিদ্রোহ এবং ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের প্রতিরোধ স্বাধীনতার আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কিছু বিষয় এখনো গবেষণার দাবি রাখে। বিশেষ করে উত্তাল মার্চে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা ঢাকায় আনা হলেও কেন সব পুলিশ সদস্যকে একত্রে রাজারবাগে রাখা হয়েছিল, তা ভবিষ্যৎ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন করেন।
































