চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের ছবি: সংগৃহীত

বাসস

Published : ১০:৪৯, ১০ আগস্ট ২০২৬

বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণীকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ এবং তারল্যসংকটসহ নানা কারণে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর (নন-ভায়াবল) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় এনে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

অকার্যকর ঘোষণার পর চার প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। রেজল্যুশন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা এবং আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতাবলে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

রোববার (৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় এনে প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণীকৃত ঋণ বা বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অক্ষমতা।

রেজল্যুশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং রেজল্যুশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আমানতকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement