মুদিদোকান করের আওতায় আনা কি সম্ভব, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে?

মুদিদোকান করের আওতায় আনা কি সম্ভব, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:২১, ২৬ জুন ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতকে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে কীভাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমান ভ্যাট আইনে বছরে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান টার্নওভার কর ও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি পায়। ফলে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য কীভাবে রাখা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, মুদি দোকানের পাশাপাশি তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিকস, প্লাস্টিক ও সিরামিক পণ্যের দোকান, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকসের দোকান, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড-সিমেন্ট, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টির দোকান এবং রেস্তোরাঁকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার টাকার পণ্য সরবরাহে দুই টাকা হারে অগ্রিম কর কাটার বিধান রাখা হয়েছে। যদিও মুদিদোকানের সংজ্ঞা, করের আওতায় আসার মানদণ্ড কিংবা ভ্যাটের নির্দিষ্ট হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রাজস্ব কর্মকর্তাদের মতে, দোকানের আকার, বিক্রির পরিমাণ ও পণ্যের মজুতের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্যাকেজ ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। ভ্যাট পরিশোধের জন্য ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সহজ ব্যবস্থা চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আলাদা হিসাব সংরক্ষণ বা আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হবে না।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। তাদের বড় একটি অংশের ট্রেড লাইসেন্স বা আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনও নেই। ফলে তাদের করের আওতায় আনা প্রশাসনিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতকে ধাপে ধাপে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। শুরুতে প্যাকেজ ভ্যাট চালু করে পরবর্তীতে এসব ব্যবসাকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আহরণ আরও কার্যকর হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement