মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল
Published : ০৯:৫৬, ১০ আগস্ট ২০২৬
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। আপিলটি আজ সোমবার (১০ আগস্ট) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে মামলাটির বিচার শুরু হয়। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন আবুল কালাম আযাদ। তার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৩ সালের রায়ে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রায় ১২ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। এরপর জানা যায়, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তেই সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।
আত্মসমর্পণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।
আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী মশিউল আলম গত ২১ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল থেকে তার মক্কেলের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে এক বছরের জন্য সাজা স্থগিত করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।


































