নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃত্যু হাজার ছাড়াল
Published : ১৬:৫১, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা প্রলয়ংকারী ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্তবর্তী এই জনপদে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
বিধ্বংসী এই দুর্যোগে কেবল নেপালেই প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত ও এর সংলগ্ন চীনা অংশে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
প্রাকৃতিক তাণ্ডবের পর দুই দেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এখন চলছে নিখোঁজদের অন্তহীন সন্ধান। বর্তমানে নেপালে ৩ হাজার ৯১৬ জন এবং চীনের অংশে আরও ৫৪৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পরও মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এখন পর্যন্ত নেপালে প্রায় ১১ হাজার ৮১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটির স্রোতের মাঝেও মাঝেমধ্যে কিছু আশার আলো উঁকি দিচ্ছে। বন্যার তোড়ে ভেসে যাওয়ার পর মৃত বলে ধরে নেওয়া ৫ বছর বয়সী শিশু মনীষা মাগারকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা গোটা উদ্ধার অভিযানে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি উদ্ধার অভিযানের ভিডিও দেখে পরিবারটি শিশুটির সন্ধান লাভ করে।
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিখোঁজ স্বজনদের আকুল টানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পরিজনহারা মানুষেরা। নিখোঁজদের তালিকায় প্রায় ৮০ জন মার্কিন নাগরিকের স্বজনেরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রিয়জনের জীবিত ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন শত শত উদ্বিগ্ন পরিবার।
উদ্ধারকর্মীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অজ্ঞাত মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা। দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে ও কাদার মধ্যে পচে যাওয়ায় অনেক মৃতদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। প্রিয়জনের এই চরম পরিণতিতে ডিএনএ বা অন্যান্য মাধ্যমে শনাক্তকরণ অসম্ভব হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ গণকবরে দাফন করছে।
প্রকৃতির এই নির্মম থাবায় পাহাড়ি জনপদের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলেও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি উন্মোচিত হতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

































