হরমুজে আটকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ
Published : ১০:৪৭, ২৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংস্থাটির মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এ তথ্য জানিয়েছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।
ডোমিঙ্গুয়েজ জানান, সংঘাত চলাকালে অন্তত ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সহযোগিতায় বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার ও স্থানান্তর অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমকে কতটা ব্যাহত করেছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক নাবিককে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং কোনো রাষ্ট্রেরই সেখানে টোল বা ফি আরোপের অধিকার নেই।
আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০০টি জাহাজ অবস্থান করছে।
এক বিবৃতিতে আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পেয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ যাচাই করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন কিয়েস বাকেন্স জানিয়েছেন, তেল পরিবহন ও সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত জাহাজগুলো ইতোমধ্যে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালিতে ফিরে আসতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ওমান সরকারের নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করাতে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্ভাব্য টোল আদায়ের বিষয়টি বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও তিনি মনে করেন।
তবে প্রণালিতে অবশিষ্ট মাইনের উপস্থিতি এখনো উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, ওমানের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নাবিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে এবং নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে নিরাপদে চলাচল সম্ভব হবে।



































