জাপানের বিরুদ্ধে ‘সামরিক পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার
Published : ১৯:৩৮, ৫ আগস্ট ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে এসে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়ায় জাপানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
জাপানের নতুন প্রতিরক্ষা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করার পর মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেন, জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিকায়নের প্রেক্ষাপটে পিয়ংইয়ংও প্রয়োজনীয় বিকল্প প্রস্তুতি নেবে।
তিনি অভিযোগ করেন, “যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র জাপান আবারও একটি যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে।”
কিম ইয়ো জং বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় জাপানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা উদ্বেগজনক। তিনি টোকিওর টমাহক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, জাপান আগাম হামলার সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ যদি উত্তর কোরিয়ার জন্য গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে পিয়ংইয়ং নীরব থাকবে না।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার নিশ্চিত করেছে, গত সপ্তাহে পরিচালিত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল দেশটির প্রথম এ ধরনের পরীক্ষা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পুরো কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের উপনিবেশ ছিল। ১৯৪৫ সালে জাপানের আত্মসমর্পণের পর ৩৮তম অক্ষরেখা ধরে কোরীয় উপদ্বীপ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভক্ত হয়। সেই ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস এখনো দুই কোরিয়ার সঙ্গে জাপানের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, আগ্রাসী মনোভাবের উত্তরাধিকার বহনকারী সামরিকবাদীরা যদি আরও শক্তিশালী অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে এর পরিণতি ভালো হবে না।
এদিকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির অবস্থান জাপানে। দেশটি ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা বাজেট ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ।
উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র চীনও সম্প্রতি জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত নভেম্বরে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে জাপানও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এরপর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অবস্থানও বহাল রেখেছে।
অন্যদিকে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধের কারণে ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যায়। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া বারবার নিজেকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।
সূত্র: এএফপি































