ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। ছবি : পিএমও

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫২, ৫ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর আয়োজিত ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সহিংসতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নামে প্রতিষ্ঠান নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান নয়; বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং জনগণের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণের একটি জাতীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের শহীদদেরও জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ছবি : পিএমও

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অহেতুক ইস্যু তৈরি করে কেউ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে।

তিনি দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের সময় গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণসহ নৃশংস সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা সভ্য সমাজে বিরল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, সাহস ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস তুলে ধরবে। একই সঙ্গে তিনি জাদুঘরে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ইতিহাসকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান পরিহার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জাদুঘরের তথ্য বাংলা ছাড়াও ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীরাও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারেন।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি যোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ করছে।

ছবি : পিএমও

বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী গণঅভ্যুত্থানের সময় জনগণের পাশে থাকার জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া মন্ত্রী, উপদেষ্টা, কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, সংস্কৃতিজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement