২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য ভারতের: আইএমএফের প্রাক্কলন

২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য ভারতের: আইএমএফের প্রাক্কলন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০০:৩৬, ৬ আগস্ট ২০২৬

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে। সম্প্রতি ভারতের রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬) প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান মূল্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কৃষি, উৎপাদনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে সমন্বিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

উৎপাদন ও শিল্প খাতে গুরুত্ব
সরকার প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI), মেক ইন ইন্ডিয়া, পিএম গতিশক্তি এবং নতুন লজিস্টিকস নীতির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (ECGS), উদ্যম রেজিস্ট্রেশন এবং পিএম বিশ্বকর্মা কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ
অর্থমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালস খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিকস (AVGC) খাতের জন্য বিশেষ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও বাণিজ্য সংস্কার
সরকার কৃষিতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং বাজারজাতকরণ সহজ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্প্রসারণ এবং জিএসটি ও আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে অগ্রগতি
রাজ্যসভায় আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্মলা সীতারামন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারফায়েসাই (SARFAESI) আইনের আওতায় ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে, যার বিপরীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপি।

তিনি বলেন, এসব মামলার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

ভারত সরকার মনে করছে, উৎপাদন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং 'বিকশিত ভারত ২০৪৭' লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

 
শেয়ার করুনঃ
Advertisement