যুক্তরাজ্যে যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি মন্ত্রী নির্বাচিত এমপি
Published : ০০:৪৪, ৬ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাজ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতন ও মানবপাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা পাকিস্তানের সাবেক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচনে সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রুশোলম এলাকায় একটি কেয়ার হোমে থাকা কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন এবং মানবপাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তদন্ত চলমান থাকায় নির্ধারিত সময়ে তাকে পুনরায় ম্যানচেস্টার থানায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারেননি।
তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যায়।
রুখসার আহমেদ পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে ২০০৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) ২০২৪ সালে তার জামিনের শর্ত হিসেবে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করলেও আদালত তখন কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেনি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রুখসার আহমেদ দীর্ঘদিন ম্যানচেস্টারের রুশোলম এলাকায় বসবাস করেছেন এবং সেখানে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ছিল। তিনি ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন, যা ম্যানচেস্টারের পরিচিত ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত। বর্তমানে রেস্টুরেন্টটি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তারা রুখসার আহমেদের যৌন নির্যাতন ও মানবপাচারের শিকার হয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। প্রয়োজনে তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
এদিকে, পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রুখসার আহমেদকে চেনেন, তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না।































