কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পরও ১৪০ নিখোঁজ, জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ
Published : ১৬:০৪, ১৭ আগস্ট ২০২৬
কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ জোরদার করা হয়েছে। রোববার বুলডোজার, ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যাচ্ছেন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এতে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে এখনো অন্তত ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরার ৩০ বছর বয়সী নার্সিং শিক্ষার্থী আন্দ্রেস কানো বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা এখন অনেকটাই কমে গেছে।
ভূমিকম্পের মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারের জন্য এই দুর্যোগ বড় ধরনের প্রথম পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কলম্বিয়াকে সহায়তা করার জন্য দেশটির ওপর আরোপিত শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পে প্রায় ২৭ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই খোলা জায়গায় অস্থায়ী বিছানা তৈরি করে রাত কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে কিউআর কোডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কোড ব্যবহার করে নিখোঁজ স্বজনের তথ্য জানানো এবং নিজেদের বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর বিভিন্ন ভবনে লাল রঙের ‘ঢ’ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে—এমন সতর্কতা হিসেবে এসব চিহ্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে এসব ভবনের আশপাশে পথচারীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে নিজের মালপত্র বোঝাই একটি হলুদ ট্রাকের পাশে হাঁটছিলেন ৪১ বছর বয়সী আইনজীবী জর্জ লিওন। তিনি বলেন, আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করার কষ্ট অত্যন্ত কঠিন।
ক্যালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদেরের হিসাব অনুযায়ী, কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহরটি পুনর্গঠনে অন্তত ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা কলম্বিয়াকে কয়েক মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।






























