কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ২,৩২৫, ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ২,৩২৫, ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৩৯, ১৭ আগস্ট ২০২৬

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এটি কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিআরসির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে মোট ৪ হাজার ৯৪৫ জন নিশ্চিত ইবোলা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ৩২৫ জন। ফলে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ।

নতুন মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ডিআরসির পূর্বাঞ্চলে চলা ইবোলা প্রাদুর্ভাবের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। ওই সময় ৩ হাজার ৪৮১ জন আক্রান্তের মধ্যে ২ হাজার ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর এটি দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব। গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এবার সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতি।

দেশটির ইতুরি, উত্তর কিভু, হাউট-উয়েলে, তশপো, দক্ষিণ কিভু ও বাস-উয়েলে—এই ছয়টি প্রদেশের মোট ৫৫টি স্বাস্থ্য জোনে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছিল, কঙ্গোর বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছিলেন, প্রাদুর্ভাবটি ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে এবং আগের অনেক প্রাদুর্ভাবের তুলনায় দ্রুত ছড়াচ্ছে।

বর্তমান সংক্রমণের গতি অব্যাহত থাকলে এটি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা মহামারির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারিটি ছিল এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় নথিভুক্ত ইবোলা প্রাদুর্ভাব। ওই মহামারিতে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement