ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট
Published : ১৩:৫৩, ১৮ আগস্ট ২০২৬
সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রধান পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসির বিধানই বহাল রেখেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত বিধির সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখে আদালত জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই কার্যকর থাকবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রাণঘাতী ইনজেকশনসহ কম যন্ত্রণাদায়ক বিকল্প পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে করা একটি জনস্বার্থ আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালত বলেন, বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
আবেদনে ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইনজেকশন, বিষাক্ত গ্যাস বা গুলির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো বিকল্প পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের তিনটি রায় বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও করা হয়। তবে পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকায় সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত।
আইনজীবী ঋষি মালহোত্রার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়, ফাঁসির পর চূড়ান্ত মৃত্যু নিশ্চিত হতে প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তার দাবি, এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া দণ্ডিত ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারায় ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণার পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি।
তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, বন্দিদের ফাঁসি বা প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মতো পদ্ধতির মধ্যে থেকে নিজেদের পছন্দের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়।
চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বর্তমান রিট আবেদন খারিজ করা হলেও ভবিষ্যতে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত প্রমাণ পাওয়া গেলে নতুন কোনো পদ্ধতি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে পারবে।































