ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো এআই অটো ফাইন, ক্যামেরায় শনাক্ত হবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো এআই অটো ফাইন, ক্যামেরায় শনাক্ত হবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:২৪, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আদায়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট হাইওয়ে মনিটরিং সেন্টার থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় কোনো গাড়ি আইন লঙ্ঘন করলে ক্যামেরা সেটি শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করবে। এরপর গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলা ও জরিমানার তথ্য পাঠানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও থাকবে।

কর্তৃপক্ষের মতে, এ ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগের সময় চালক বা গাড়ির মালিকের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ কমে আসবে। ফলে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগও কমবে। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে একটি ডেটা সেন্টার এবং পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে মহাসড়কে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর তথ্য পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির এ প্রকল্পটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি গত বছরের ৩০ জুন শেষ হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ২১ হাজার টাকা ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত ১৪২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের দাবি, এআইনির্ভর অটো ফাইন ব্যবস্থা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়ানোর পাশাপাশি যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোরও আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

হাইওয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে, উপমহাদেশে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রসিকিউশন ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে দ্রুত জরিমানা আদায় করা সম্ভব হবে।

 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement