অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানো হবে, প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
Published : ১৪:৫৩, ১৮ আগস্ট ২০২৬
অপ্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সৎ ও দক্ষ, সরকার তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চায়। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমের ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব সম্মেলন আগামী দিনের আরও বড় সাফল্যের পথ দেখাবে—এটাই প্রত্যাশা।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের প্রভাব থেকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি-নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এতে মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। দেশের জনগণ, বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকার দেশকে ঋণ ও আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বর্তমান সরকার বৈদেশিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্বের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে।
এ লক্ষ্যে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে। পাশাপাশি মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






























