পতেঙ্গায় সাগরে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু, অপহরণের নাটক সাজিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ
Published : ১৫:৩৮, ১৮ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তবে বন্ধুরা বিষয়টি গোপন রেখে শানকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত শান হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে কোচিং পরীক্ষায় অংশ নিতে বাসা থেকে বের হয় শান। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে চার বন্ধুর সঙ্গে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে।
পরদিন রোববার সকালে শানের বাবার মোবাইল ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, শানকে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হচ্ছে। তাকে জীবিত ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিকাশ নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও শানকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। উল্টো আরও টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর শানের বাবা হালিশহর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করেন। তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে শানের চার বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে চার বন্ধু পুলিশকে জানায়, শনিবার দুপুরে তারা সবাই মিলে শানকে নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যায়। সেখানে সাগরে গোসল করতে নামার পর স্রোতের টানে শান ভেসে যায়। ভয়ে তারা ঘটনাটি কাউকে না জানিয়ে যার যার বাসায় ফিরে যায়।
পরে হালিশহর থানা-পুলিশ পতেঙ্গা থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারে, শনিবার বিকেলে সমুদ্রসৈকত থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা পতেঙ্গা থানায় গিয়ে মরদেহটি শানের বলে শনাক্ত করেন।
হালিশহর থানার এসআই মোশাররফ হোসেন বলেন, শানের বন্ধুরা জানিয়েছে, ভয়ে তারা দুর্ঘটনার বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তবে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো ঘটনা রয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

































