তিন বছর পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি গ্রেপ্তার
Published : ১৪:৪৫, ১৮ আগস্ট ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. আশরাফুল ইসলামের অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে (৫৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডির সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিট জানায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরে শাহজাদপুরের জামিরতা বাজার এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাড়াদহ এলাকার মৃত নুর হোসেন মোল্লার ছেলে এবং বর্তমানে জামিরতা এলাকায় বসবাস করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যার পর মোবাইল ফোনে একাধিকবার আশরাফুলকে বাড়ি থেকে ডেকে জামিরতা বাজারে নিয়ে যান রফিকুল। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি ওই কিশোর। রাতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
আশরাফুলের বাবা এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে দীর্ঘদিনেও ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা মোছা. নাছিমা খাতুন ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর আদালতে তিনজনকে আসামি করে পিটিশন মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি সিরাজগঞ্জের ওপর ন্যস্ত হয়।
সিআইডি জানায়, শুরুতে মামলাটি ছিল অনেকটা ক্লু-লেস। তদন্তের একপর্যায়ে এসআই মো. আজমল হোসেন মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই শুরু করেন। এতে মামলার এজাহারনামীয় প্রথম আসামি রফিকুল ইসলামের ভূমিকা তদন্তকারীদের নজরে আসে।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পিটিশন মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে শাহজাদপুর থানায় রুজু করা হলে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে একটি বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই কিশোরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন রফিকুল মোবাইল ফোনে আশরাফুলকে ডেকে যমুনা নদীর পাড়ে নিয়ে যান বলে সিআইডি জানিয়েছে। সেখানে যৌন উত্তেজক ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধের প্রভাবে আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল জানিয়েছেন। পরে স্রোতে মরদেহ ভেসে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।
পরে রফিকুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।
সিআইডি আরও জানায়, রফিকুলের বিরুদ্ধে অতীতেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। প্রায় ৭-৮ বছর আগে উল্লাপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে তাঁতের কাজে সহযোগিতা করার সময় তার ছেলের সঙ্গে রফিকুলের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ওই তরুণের বিয়ের বিষয় জানতে পেরে রফিকুল তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৫ সালে শাহজাদপুর থানায় মামলা হয় এবং পরে তিনি সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন।
তবে আশরাফুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করা হলেও এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রফিকুলের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং মরদেহের সন্ধানে যমুনার ভাটি অঞ্চলের বিভিন্ন থানায় তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর অজ্ঞাতনামা মরদেহের রেজিস্টার ও নথিপত্রও যাচাই করছে সিআইডি।
আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধার, আসামির দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না—তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।






























