সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, বন্ধ কার্যক্রম
Published : ১০:৩৯, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ব্যবস্থায় একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দেশটির তেল সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পাইপলাইনটিতে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পাম্পিং স্টেশনে হামলার আশঙ্কা
মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাইপলাইনের পাশে থাকা কয়েকটি পাম্পিং স্টেশনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে একটি পাম্পিং স্টেশনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড এবং অন্য একটি স্টেশন থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া পাইপলাইনের আশপাশে নয়টি বড় আগুনের শিখা শনাক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরাক থেকে আসা একাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব আপাতত কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তদন্তের নির্দেশ ইরাকের
ইরাক সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবে কোনো হামলা চালাতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটি।
হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইরাকি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন।
প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবের জন্য ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হচ্ছিল।
সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের একটি বন্দর দখল করার পর সৌদি আরবের তেল পরিবহন ব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনে হামলা দেশটির তেল রপ্তানিকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
তেল উৎপাদনেও চাপের আশঙ্কা
এদিকে ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এর মধ্যে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোয় নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনায় উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



































