জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ, জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান
Published : ১৯:১৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিয়ে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল নজির গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে তিনি প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। পুরো ভাষণটি তিনি বাংলায় দেন।
এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একই পরিবারের তিন সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার একটি বিরল পারিবারিক ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।
ভাষণের শুরুতে তারেক রহমান তাঁর বাবা ও মায়ের জাতিসংঘে ভাষণের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। একইভাবে তিনিও বাংলাদেশের স্বার্থ ও একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘে দাঁড়িয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিকতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবাধিকার, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়াই সংকটের একমাত্র সমাধান। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—থ্রি-আর কৌশলের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর মা খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর, ৪৮তম অধিবেশনে। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
এবার ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।






























