জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন করে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে চাই: তারেক রহমান

জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন করে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে চাই: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৩৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছে যায়।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন।

নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের অগ্রাধিকারে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষা, দক্ষতা ও তরুণদের সুযোগ
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রযুক্তিতে বৈষম্য দূর করার আহ্বান
বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করলেও প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।”

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এলডিসি উত্তরণে সহযোগিতা চাইলেন
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তারেক রহমান।

আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রত্যাবাসনে
বাংলাদেশে ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো তাদের নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সহযোগিতা চান তিনি।

জলবায়ু ও পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও ফিলিস্তিন
বিশ্বের সংঘাত ও মানবিক সংকটের সমাধান আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণের শেষাংশে তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ, নারীর আত্মনির্ভরতা এবং শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—“সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ।”

শেয়ার করুনঃ
Advertisement