রাখাইনে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ৫০, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শঙ্কা

রাখাইনে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ৫০, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শঙ্কা ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৮:৫৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কায়ুকতাও এলাকায় সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৮ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কায়ুকতাও শহরের একটি ব্যস্ত বাজারের কাছে এ হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, হামলার সময় বাজারটিতে ২০০টির বেশি দোকান খোলা ছিল এবং সেখানে রাখাইন, রোহিঙ্গা, হিন্দু ও দাইংনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এ হামলার জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে। স্থানীয় মানবিক সহায়তাকর্মী ওয়েই হান অংও হতাহতের সংখ্যা ৫০ নিহত ও অন্তত ৫৮ আহত বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুকা অভিযোগ করেছেন, সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনবহুল বাজার, স্কুল, আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেছেন, রাখাইনে চলমান সহিংসতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বর্তমানে রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি নেই।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনবহুল বাজারে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইনেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘাতের মধ্যেই বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement