বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে ফ্রান্সে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট, আটক ৪৪০

বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে ফ্রান্সে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট, আটক ৪৪০ ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৭:৩৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেতন বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী। একই দিনে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সংকটের প্রতিবাদে দেশটির শত শত স্কুলে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরাও।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষক, দমকলকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি খাতের কর্মীরা একদিনের ধর্মঘটে অংশ নেন। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পুলিশের হিসাবে শুধু রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজার।

বিক্ষোভকারীরা বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা এবং সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ৫৮ জন আহত এবং ৪৪০ জন আটক হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, ২০২৭ সালে সরকারি কর্মীদের মূল বেতন না বাড়িয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে সরকার। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে টানা চতুর্থ বছর সরকারি কর্মীদের বেতন অপরিবর্তিত থাকবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন বেতন স্থবির থাকার কারণে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ পরিস্থিতিতে তারা ৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবারের (সিজিটি) সাধারণ সম্পাদক সোফি বিনেট এই কর্মসূচিকে সরকারের প্রতি ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সরকারের বাজেট পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং পরবর্তী ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব প্রত্যাহারে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেন।

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষক ও স্কুল কর্মী ধর্মঘটে অংশ নেন। দেশটির শিক্ষকদের গড় বেতন ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য বেসামরিক কর্মচারীদের মধ্যে ধর্মঘটে অংশগ্রহণের হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে।

স্বাস্থ্য খাতেও কর্মসূচির প্রভাব পড়ে। হাসপাতালগুলোতে ধর্মঘটে অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। একদিন ধর্মঘট করলে বেতন কেটে নেওয়ার আশঙ্কা কর্মীদের অংশগ্রহণের হার কম হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দমকলকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, চলতি গ্রীষ্মে ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলার সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি তাদের কর্মপরিবেশের নানা সংকটকে সামনে এনেছে।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল ফ্রান্সের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement