ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১১:৫৯, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। তবে বৈঠকে আলোচিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর মধ্যেই শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ঢাকায় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে তিনি ওই সময়ের পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। সে সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সামনে পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া খুব বেশি বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে যখন দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তখন হাইকমিশনারের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত বোঝাতে চেয়েছে যে শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফল এবং এ ঘটনায় ভারতকে এককভাবে দায়ী করার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, আরেকটি মত হলো—শেখ হাসিনাকে ভারতীয় সামরিক বাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি, এই বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরে নয়াদিল্লি ওই ঘটনার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা ও দায়ের সীমারেখা স্পষ্ট করতে চাইছে।

বিশ্লেষকেরা আরও মনে করছেন, দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভারতের রাজ্যসভায় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের পেছনে বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতিকেই মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরছে ভারত।

এদিকে ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকটি এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement