যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১২:৩৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ, জালিয়াতি ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বেশির ভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে অপরাধ, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর ভিসা পাওয়ার যোগ্য নন—এমন তথ্য পাওয়ার পরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ধরনের ভ্রমণ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানান, বার্থ ট্যুরিজমে জড়িত থাকা বা এ কাজে সহায়তার অভিযোগে চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে হামলা ও এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছিল। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে বাতিল হয়েছে ২২ শতাংশ ভিসা। চুরির ঘটনায় ৭ শতাংশ এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা বিতরণের অভিযোগে আরও ৭ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে জানুয়ারিতে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তর, তখন যা রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাতিলের সংখ্যা বেড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়।

এদিকে, ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এসব উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসীরা আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় পড়তে পারেন এবং তাঁদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement