ইশরাকের উদ্দেশ্য মহৎ, সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য আব্বাসীর
Published : ১৮:৪৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী উদ্যোগের উদ্দেশ্যকে মহৎ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। একই সঙ্গে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ক্ষতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে বক্তব্যে সাংবাদিকদের একাংশকে নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় তার বক্তব্যে বিতর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করে আব্বাসী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর উদ্যোগ যথাযথ হলেও পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতি সঠিক ছিল না। তার ভাষায়, “ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্যই এটা ঠিক। তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটা খারাপ ছিল, উদ্দেশ্য মহৎ ছিল।” এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ ঘটনার দায় নিতে চায়নি।
সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে আব্বাসী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিকের পরিবর্তে পিস্তল হাতে দৌড়ানোর ঘটনাটিই বেশি প্রচার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন এবং তাদের ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যা দেন। পাশাপাশি এ ধরনের সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আব্বাসীর অভিযোগ, কিছু সাংবাদিক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে কাজ করেন এবং দেশের উন্নতি চান না। এ ধরনের সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিক সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা হলে সরকারের সিদ্ধান্তও ভিন্ন হতে পারত। একই সঙ্গে দেশে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্বাসী বলেন, অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সমর্থকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের লোকজনও থাকতে পারেন। তার মতে, আওয়ামী লীগে কেউ নেই—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত; তবে নিরীহ ব্যক্তিদের ক্ষমা করে দেওয়া দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
বক্তব্যের শেষ দিকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য পাশে রেখে তিনটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্বাসী। বিষয়গুলো হলো ইসলামের স্বার্থ সংরক্ষণ, মুসলমানদের মৌলিক দাবি আদায় এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।































