মধ্যপ্রাচ্যে হামলার প্রভাবে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম, ব্রেন্ট ক্রুড ১১০ ডলার ছাড়াল
Published : ১১:০৪, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দর ঘিরে হামলার ঘটনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ১১ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ৯৮ ডলার ১২ সেন্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের ১০৮ ডলার ৮২ সেন্ট থেকে ১ ডলার ২৯ সেন্ট বেড়ে ১১০ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৭ ডলার ১৫ সেন্ট থেকে ৯৭ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার ১২ সেন্টে পৌঁছায়।
এদিকে সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রের কাছে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই বিদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুজন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে পাঠানো হলেও এর কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে জাহাজে অন্তত ১৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলএসইজির বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর পর্যন্ত নৌযান চলাচলে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ায় তেল পরিবহন এবং জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, অবরোধ ও সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার আশা করতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমে যাওয়াও বাজারে দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাবে, ১৬ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে বাণিজ্যিক তেলের মজুত ৩০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে ৪১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত বেড়েছে ১৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল। এতে মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪৩ লাখ ব্যারেলে। বিশ্লেষকেরা এ ধরনের জ্বালানির মজুত কমবে বলে ধারণা করেছিলেন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন নর্থইস্ট হোম হিটিং অয়েল রিজার্ভ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেল জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে। সাময়িক বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় এ সুবিধা নেওয়া কোম্পানিগুলোকে পরে নেওয়া পরিমাণের চেয়ে বেশি জ্বালানি ফেরত দিতে হবে। শীত শুরুর আগে জ্বালানির সম্ভাব্য ঘাটতি ও ঘর গরম রাখার খরচ কমানো এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার আশঙ্কা এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।






























