পদত্যাগের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, যা বললেন ইশরাক হোসেন
Published : ১২:০৩, ২২ অক্টোবর ২০২৬
মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর নিজের অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। স্টার নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পরই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানের দিন কী ঘটেছিল, জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন স্টার নিউজকে বলেন, তাঁদের দিকে একদল মাদকসেবী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি এগিয়ে এসেছিল। এর আগে ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাইপগানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার দিনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানান এই নেতা।
নিজের আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রটি তাঁর কাছে ছিল। তাঁর ভাষ্য, কেউ তাঁর দিকে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অস্ত্র কাছে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বর্ণনা দিয়ে ইশরাক জানান, দুপুরে তাঁকে সময় দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে চলে যান। ইশরাক পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন, যাতে বৈঠক শেষে আলোচনা আবার চালিয়ে যাওয়া যায়।
তিনি বলেন, পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডেকে নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। তিনি বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে দুজন আবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে কি না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াই এর একমাত্র কারণ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, দল কখনোই চাইবে না মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য পদত্যাগ করুন। তিনি অভিযোগ করেন, তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, যার উদ্দেশ্য তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা।
ইশরাকের পদত্যাগের পর বিরোধী দলের নেতাদের তাঁর প্রতি সমর্থন জানানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক নেতা সরাসরি ফোন করে তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, প্রয়োজন হলে তাঁর কর্মকাণ্ডে তাঁরা সহযোগিতা করবেন। ইশরাকের ভাষ্য, এ ধরনের প্রবণতা এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করা মূল নেতাকর্মীরা তাঁকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান। তবে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।

































