গরমে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা, কীভাবে বাঁচবেন
Published : ১০:৪৬, ৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে তীব্র গরমের কারণে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা থাকে হিটস্ট্রোক–এর।
অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হয়ে গেলে এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ অবস্থায় মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট মানুষ এই ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। যেমন—শিশু ও বয়স্করা, রোদে দীর্ঘসময় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ–এ আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যারা খোলা রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ
হিটস্ট্রোক হলে সাধারণত কয়েকটি স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীর অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠা, ঘাম কমে যাওয়া বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন।
তীব্র গরমে সুস্থ থাকার উপায়
গরমের সময় সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই পানি পান করা ভালো। প্রয়োজনে ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা ভালো। হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরলে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।
এছাড়া দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে মাঝেমধ্যে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ভারী কাজ থেকে বিরত থাকাও প্রয়োজন।
হিটস্ট্রোক হলে করণীয়
কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে। তার কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে এবং শরীরে ঠান্ডা পানি দেওয়া বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া উচিত। এরপর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলেই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই প্রচণ্ড গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি রোদে না যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিডি/এএন



































