বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে চায় তুরস্ক: হাকান ফিদান

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে চায় তুরস্ক: হাকান ফিদান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন।

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:১৭, ৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে আঙ্কারা।

বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী ও দূরদর্শী অংশীদারিত্বে রূপ দিতে কাজ করছে তুরস্ক।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এবং ড. রহমানের অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালনে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফিদান জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমান ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে উভয় দেশের সহযোগিতার অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সফরকালে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যুকে সক্রিয় রাখতে কাজ চালিয়ে যাবে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

হাকান ফিদান জানান, সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগ ও যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশ দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করবে। 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement