জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় চলচ্চিত্রকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
Published : ০১:৪০, ৬ জুন ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তুলতে চলচ্চিত্রের শক্তিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তন ও জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ট্রেন্ড অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (জিটিসিএফ) ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সচেতনতা তৈরির বার্তা বহনকারী চলচ্চিত্রগুলোকে সরকার অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগগুলোও একইভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রের প্রস্তাব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালার আওতায় এসব উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও অন্যান্য কনটেন্ট শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রচার করা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই চলচ্চিত্র উৎসবকে নিয়মিত ও আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা উচিত। কারণ জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সৃজনশীল উদ্যোগগুলো সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তরুণ নির্মাতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সীমিত পরিসরে কাজ করলেও তাদের উদ্যোগের প্রভাব বৈশ্বিক হতে পারে। তাই দৃঢ় প্রত্যয় ও সৃজনশীলতা নিয়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
দিনব্যাপী উৎসবে দেশ-বিদেশের জলবায়ু সংকট, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এতে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্যনির্ভর গল্প, সৃজনশীল সংলাপ এবং চলচ্চিত্রভিত্তিক জনসচেতনতা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।































