গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
Published : ০২:৩২, ৬ জুন ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সংবাদমাধ্যম নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করবে।
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। তবে একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “গণমাধ্যম স্বাধীন থাকবে, চলবে নিজস্ব গতিতে। তবে আমরা চাই সংবাদ পরিবেশনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় থাকুক। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে, যা রাষ্ট্র ও গণমাধ্যম—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।”
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরিতেও এর অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায়ও এআই-সৃষ্ট ভুয়া ছবি, ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মাধ্যমে সারাদেশে সাংবাদিকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ বছর সব সাংবাদিককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব না হলে আগামী বছর তা সম্পন্ন করা হবে।”
সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার সচেতন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদমাধ্যম মালিকদের প্রতি সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর্মরত সাংবাদিকদের সময়মতো পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জনমত গঠন এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সংবাদ প্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়নি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার গঠনমূলক ও যৌক্তিক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, “সমালোচনা থাকলেই ভুলগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। তাই দেশ পরিচালনায় যেমন সহযোগিতা প্রয়োজন, তেমনি দায়িত্বশীল সমালোচনাও প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।































