বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কে নতুন গতি: কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একমত দুই দেশ

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কে নতুন গতি: কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একমত দুই দেশ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৩১, ৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা যাচাইয়ে একমত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নেতৃত্ব দেন।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। উভয় পক্ষই মনে করছে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠানো এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।

অন্যদিকে, হাকান ফিদান বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে তুরস্কের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। হাকান ফিদান গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান এবং আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement