রেকর্ড ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট আজ সংসদে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধিতে জোর

রেকর্ড ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট আজ সংসদে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধিতে জোর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৪৬, ১১ জুন ২০২৬

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে হাজির হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান মেগা প্রকল্প এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনার জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট এবং আয়কর খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হওয়ায় প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।

নতুন বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে সিগারেট, নিকোটিনজাত পণ্য, কাজুবাদাম, আমদানিকৃত হিমায়িত মাছ, বিদেশি প্রসাধনী এবং এমএস রডের দাম বাড়তে পারে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দিতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর, এসি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদন খাতে কর সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি কৃষিপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তি করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা। এর অংশ হিসেবে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব সংস্কার ও করনীতির স্থিতিশীলতার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং বাজেট ঘাটতি ব্যবস্থাপনাই আগামী অর্থবছরে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement