বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি সই, বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি সই, বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০৯, ১১ জুন ২০২৬

দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে ৯ম বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পটুয়াখালীর বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখার যুগ্মসচিব ড. মো. মোকছেদ আলী এবং চীনের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর সং ইয়াং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় মোট ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে লোহালিয়া নদীর ওপর মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার এবং সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার।

সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াগাছিয়া মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে বগা ফেরিঘাটের ভাটিতে নির্মিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরশীল থাকায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নতুন সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন।

চুক্তি অনুযায়ী, মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের সম্পূর্ণ অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদান করবে চীন সরকার। অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

এখন চীনের মনোনীত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) এবং উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য ও মৎস্যসম্পদ পরিবহন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement