দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন, পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু
Published : ১০:৩২, ২৪ জুন ২০২৬
প্রায় ১৪ মাস বিরতির পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, পুষ্টিহীনতা দূর করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, ক্যাম্পেইনটি ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। দেশের দুর্গম এলাকার শিশুদের আওতায় আনতে ১২ জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে মূল ক্যাম্পেইনের পর আরও চার দিন ‘চাইল্ড-টু-চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
২ কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে—
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে।
১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত
ডা. ইউনুস আলী জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেগুলো মূলত নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্র।
এছাড়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করেন।”
রাজধানীতে উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
১৪ মাস বন্ধ ছিল কর্মসূচি
পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে এ কর্মসূচি বন্ধ ছিল। ফলে দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও জাতীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
কেন প্রয়োজন ভিটামিন ‘এ’?
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের—
- অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করে,
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,
- দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমায়,
- এবং শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে সহায়তা করে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন শুরু করছি। এ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করুন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে ১৯৭৩ সালে প্রথম ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচি চালু হয়। পরে ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’, যা বর্তমানে জাতীয় পুষ্টিসেবা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।




























