কোল্ড স্টোরেজে ফসল রেখে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন কৃষক: শিক্ষামন্ত্রী
Published : ০১:৩২, ৮ আগস্ট ২০২৬
মৌসুম শেষে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না কৃষকদের। প্রয়োজন অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন, সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষি আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।
শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় বিনামূল্যে হাইব্রিড সোলার অপারেটেড মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এই উদ্যোগকে কচুয়ার কৃষি উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কচুয়া দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল। পাশাপাশি রবি মৌসুমে এখানে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়।
কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে পরীক্ষামূলকভাবে এসব মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত কৃষকরা এখানে আলু, বীজ, ডিমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, “কৃষকদের আর মৌসুম শেষে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী ফসল সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিবন্ধন একটি সংগঠিত ব্যবসায়ী কাঠামোর ভিত্তি। বাজারের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাজার সমিতি এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সদস্যদের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিটি বাজার সমিতিই সংশ্লিষ্ট বাজারের ‘সংসদ’ হিসেবে কাজ করবে।
ড. মিলন বলেন, সরকার সামাজিক উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য মানুষ এখন অনুভব করছে এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি কচুয়ার সন্তান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলাকার মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন।
সাচার বাজারের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় মানুষ অনেক ক্ষেত্রে মুখ খুলতে পারত না। এলাকার একটি ডাকবাংলোও একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের নির্মম হত্যাযজ্ঞ ভুলে গেলে চলবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা ও দুঃস্বপ্নকে শিক্ষা হিসেবে ধারণ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে। দেশ কোথায় ছিল, কোথায় এসেছে এবং কোথায় যেতে চায়—এই উপলব্ধি থেকেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৈকত দাস, উপজেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মিজান মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সবু, সাধারণ সম্পাদক জহির সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জুয়েলসহ স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে হাইব্রিড সোলার অপারেটেড মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ করা হয় এবং প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।






























