র‍্যাব বিলুপ্ত, আসছে নতুন বাহিনী ‘এসআরবি’: খসড়া আইনে কী থাকছে?

র‍্যাব বিলুপ্ত, আসছে নতুন বাহিনী ‘এসআরবি’: খসড়া আইনে কী থাকছে? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২৩:০৪, ৬ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা: এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।


খসড়া আইনে এসআরবিকে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাহিনীটির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক থাকবেন। সদর দপ্তর হবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠনের সুযোগ থাকবে। ইউনিটটির জন্য পৃথক প্রতীক (লোগো), পতাকা ও নির্ধারিত পোশাকও থাকবে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনমত গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।


খসড়া অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির প্রধান দায়িত্ব হবে। পাশাপাশি আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে।


আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে বাহিনীর সদস্যরা নির্ধারিত ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার পরিচালনা করতে পারবেন। তদন্ত করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ স্থাপনেরও প্রস্তাব রয়েছে।


খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, এসআরবির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন সদস্য থাকবেন। কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত, অনুসন্ধান দল গঠন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে।


এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা, মাদকাসক্তি কিংবা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।


খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, চুক্তি এবং দায়-দায়িত্ব এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।


বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে র‌্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সরকার বাহিনীটির কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নতুন বাহিনীতে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি ও আরও সুস্পষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত হলেও অভিযান পরিচালনা, গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও তদন্তের মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশ আগের মতোই বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement