জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আসল কৃতিত্ব জনগণের: তথ্যমন্ত্রী
Published : ০০:৩৭, ৮ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের সাধারণ জনগণের বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একশ্রেণির মানুষ আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের করে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। কে কত বড় ভূমিকা রেখেছেন, কে কত বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার তারকাখ্যাতি বেড়েছে—এসব বিষয়কে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “অথচ এই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এই কৃতিত্ব পুরো দেশের সাধারণ জনগণের।” যারা এখনও এই অর্জনের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করছেন, তাদের সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থান, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, পরবর্তী সময়ে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ে সরকার গঠন এবং কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে অর্জিত সাফল্য আবারও হারিয়ে যেতে পারে। তাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—দুই সময়েই তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং কারাবরণ করেছেন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত চেতনাকে যখনই কোনো স্বৈরাচার দমন করতে চেয়েছে, জনগণ তখনই তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের ইতিহাসকে কেবল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে দেখলে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বোঝা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে জানতে হলে এর হাজার বছরের ইতিহাসের পাশাপাশি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ভূখণ্ডের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রার ইতিহাসও জানতে হবে।


































